দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে আলোচিত ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার শাহীনুর বেগম ও তার তিন মেয়েকে কুমিল্লার হোমনা উপজেলার লটিয়া গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) রাত ১০টার দিকে জানাজা শেষে তাঁদের দাফন সম্পন্ন হয়। এ সময় স্বজন ও এলাকাবাসীর কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকার বাতাস। একসঙ্গে একটি পরিবারের চার সদস্যকে হারানোর শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে পুরো লটিয়া গ্রাম।
নিহতরা হলেন- শাহীনুর বেগম (৩৮), তাঁর বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), মেজো মেয়ে ইকরা আক্তার (১৭) এবং ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯)।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাত ৯টার দিকে ময়নাতদন্ত শেষে অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহগুলো গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে শত শত মানুষ শেষবারের মতো তাদের দেখতে ভিড় জমান। পরে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে মা ও তিন মেয়েকে পাশাপাশি চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
জানাজায় রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে হোমনা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান মোল্লা, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি কাজী মো. ইব্রাহিমসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ অংশ নেন।
জানাজায় কান্নাজড়িত কণ্ঠে পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য মো. জুনায়েদ ইসলাম সিফাত বলেন, ‘আমি এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই। নিহত প্রধান অভিযুক্ত অন্তর মজুমদার ছাড়াও যদি অন্য কোনো ঘাতক এই ঘটনার পেছনে থেকে থাকে, তাদেরও দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। আপনারা সবাই আমার পরিবারের জন্য দোয়া করবেন।’
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পুরো পরিবার হারিয়ে এখন সম্পূর্ণ একা হয়ে গেছে কিশোর সিফাত। ঘটনার সময় সে বাসার বাইরে থাকায় অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যায়। সদ্য এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া এই কিশোরই একা হাতে ঢাকা ও লক্ষ্মীপুর থেকে মা ও তিন বোনের মরদেহ হোমনায় নিয়ে আসে। মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর গ্রামবাসী, আত্মীয়-স্বজন, চাচা ও মামারাই জানাজা ও দাফনের সব আয়োজন সম্পন্ন করেন। মা ও তিন বোনকে একসঙ্গে বিদায় জানিয়ে নির্বাক ও বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে সিফাত। স্বজনদের ভাষ্য, আপন বলতে এখন পৃথিবীতে তার আর কেউ রইল না।
নিহত শাহীনুর বেগমের মা হাজরা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, 'আমার মেয়ে ও নাতনিদের যারা এভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে, তাদের যেন ফাঁসি হয়। আল্লাহ যেন এই দুনিয়াতেই তাদের বিচার করেন।'
হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) টমাস বড়ুয়া জানান, শুক্রবার রাত ১০টায় জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে মা ও তার তিন মেয়েকে পাশাপাশি দাফন করা হয়েছে। দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পুলিশি সহযোগিতাও ছিল।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোডাউন রোড এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলেই শাহীনুর বেগম, মেজো মেয়ে ইকরা ও ছোট মেয়ে শিফার মৃত্যু হয়। আর গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকায় নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বড় মেয়ে সায়মা আক্তার।
ঘটনার পর পরই স্থানীয় জনতা ‘অন্তর মজুমদার’ নামে এক যুবককে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে গণপিটুনি দেয়। পরে পুলিশ তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে ওই যুবকেরও মৃত্যু হয়েছে। তবে এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এর পেছনে অন্য কোনো মোটিভ বা ব্যক্তি জড়িত ছিল কি না, সে বিষয়ে পুলিশি তদন্ত চলছে।
এ ঘটনায় শুক্রবার নিহত শাহীনুর বেগমের ছেলে জুনায়েদ ইসলাম সিফাত বাদী হয়ে নিহত অন্তর মজুমদারসহ অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে রায়পুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। এছাড়া অভিযুক্তকে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করতে গিয়ে হামলার শিকার সাত পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে পৃথক আরেকটি মামলা করা হয়েছে।
কে